২১ অক্টোবর ২০২৬ , ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মেয়ের খোঁজে সরকারের সহযোগিতা চান সুইটির পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপলোড সময় : ২১-১০-২০২৬
মেয়ের খোঁজে সরকারের সহযোগিতা চান সুইটির পরিবার ছবিঃ সংগৃহীত

সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী সিঁথি আক্তার ওরফে সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়লেও বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পায়নি তাঁর পরিবার। সুইটি জীবিত আছেন, নাকি তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে—এ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন স্বজনেরা। মেয়ের প্রকৃত অবস্থা জানতে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তাঁর মা জহুরা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেছেন, মেয়েকে জীবিত কিংবা মৃত—যেভাবেই হোক, ফিরে পেতে চান।

জহুরা বেগম বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে মেয়ের সঙ্গে তাঁদের কোনো যোগাযোগ নেই। ১৫ দিন আগে ফোন করে সুইটি জানিয়েছিলেন, দুই মাস পর বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু এরপর থেকে তাঁর কোনো খবর পাচ্ছেন না তাঁরা। জহুরা বেগম বলেন, “আমার মেয়ের কী হয়েছে, তা এখনো পরিষ্কার করে কিছু জানি না। বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চাই, আমার মেয়ের কী হয়েছে। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। জীবিত হোক, মৃত হোক—আমি আমার মেয়েকে চাই।”

পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার বছর আগে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের বাসিন্দা সুইটি আক্তার সৌদি আরবে যান। মেয়েকে বিদেশে পাঠানোর জন্য দালালের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা ধার করেছিলেন তাঁর বাবা ফজল মিয়া। সৌদি আরবে যাওয়ার পর প্রথম পাঁচ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছিলেন সুইটি। পরে একদিন ফোন করে পরিবারকে জানান, তাঁকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।

ফজল মিয়া বলেন, চাকরির আশায় দালালের মাধ্যমে মেয়েকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন তিনি। এ জন্য দেড় লাখ টাকা ধার করতে হয়েছিল। প্রথম পাঁচ মাস মেয়ে বাড়িতে টাকা পাঠালেও পরে কারাগারে যাওয়ার খবর দেন। সুইটির ভাষ্য অনুযায়ী, মক্কায় কর্মরত অন্য নারীকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার পর তাঁকে ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। এরপর প্রায় এক বছর মেয়ের কোনো খোঁজ পাননি পরিবারের সদস্যরা।

ফজল মিয়া জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে সুইটি আবার কারাগার থেকে ফোন করেছিলেন। তবে আদালতে তাঁর বিচার বা মামলার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। শেষবারের কথোপকথনে সুইটি জানিয়েছিলেন, দুই মাস পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন। কিন্তু দুই দিন আগে তাঁরা জানতে পারেন, সৌদি সরকার তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোনো পর্যায় থেকে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ফজল মিয়া বলেন, “আমার মেয়ের ভাগ্যে কী ঘটেছে, আমরা জানি না। সে বেঁচে আছে, নাকি মারা গেছে, তাও জানি না। আমরা শুধু মানুষের কাছে উড়ো খবর শুনেছি।”

মঙ্গলবার সকালে সুইটির বাড়িতে গিয়ে কয়েকজন প্রতিবেশীর উপস্থিতি দেখা যায়। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তাঁর বাবা দিনমজুরের কাজ করেন। পাঁচ মেয়ের মধ্যে সুইটি সবার ছোট। মেয়েকে বিদেশে পাঠাতে গিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল পরিবারটি।

এদিকে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সুইটির পরিচয় নিয়েও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তাঁর বিএমইটি কার্ডে বাবার নাম ফজল মিয়া এবং মায়ের নাম জহুরা বেগম উল্লেখ রয়েছে। তবে কার্ডে থাকা নামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিচিত ব্যক্তিদের কেউ কেউ সিঁথি আক্তার ওরফে সুইটি আক্তারকে শনাক্ত করতে পারেননি বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, পরিবারের সদস্যদের দাবি, তাঁদের মেয়ে এখনো সৌদি আরবে বেঁচে আছেন। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য তাঁদের হাতে নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। কেউ কেউ পরিবারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে নানা ধারণা প্রকাশ করলেও সেসব ধারণার পক্ষে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, সুইটি আক্তারের বিষয়ে সরকারের কোনো পর্যায় থেকে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ